Breaking

Translate

Wednesday, 22 May 2019

নিবন্ধনের বয়স নির্ধারণ | নিবন্ধনের নিয়োগের বয়স ৩৫ নিয়ে আদালতে নতুন রায়

নিবন্ধনের বয়স নির্ধারণ

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ তথা শিক্ষক নিবন্ধনের বয়স নির্ধারণ

নিবন্ধনের বয়স নির্ধারণ তথা এন্ট্রি লেভেলে বেসরকারি শিক্ষক পদে নিবন্ধনকারীদের নিয়োগের বয়স ৩৫ নির্ধারণ করায় চিন্তিত ছিলেন পঁয়ত্রিশ উর্ধ্ব নিবন্ধনকারীগণ।একদিকে শিক্ষক নিবন্ধনের বয়স নির্ধারণ অন্যদিকে ঢিলেঢালা নিয়োগ কার্যক্রমের জন্য হতাশ ছিলেন অনেক নিবন্ধনকারী।নিবন্ধনের নিয়োগের বয়স নির্ধারিত হয়েছে নতুন এমপিও নীতিমালায়।তবে NTRCA সর্বশেষ খবর অনুযায়ী সুখবর আছে ৩৫ উর্ধ্ব নিবন্ধনকারীদের জন্য।

২০১৭ সালের ১৪ই ডিসেম্বর নিবন্ধনকারীদের দায়ের করা ১৬৬টি রীট পিটিশনের মীমাংসা করে একটি রায় দিয়েছে আদালত।এতে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার নব্বুই কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধনকারীদের একটি সমন্বিত মেধাতালিকা করে নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।ফলে নতুন করে আবার শিক্ষক নিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়।ইতোমধ্যেই গত ১০ই জুলাই ২০১৮ নিবন্ধনকারীদের সেই কাঙ্ক্ষিত NTRCA মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নিবন্ধনকারীগণ শুধু যথাসময়ে সার্কুলার এবং গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ দেয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।কিন্তু জটিলতা দেখা দেয় চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে।

আদালত সরকার তথা NTRCA কে বলেছে এসব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরীতে প্রবেশের একটি বয়সসীমা নির্ধারণ করে দিতে যা বিগত সময়ে ছিলোনা।NTRCA এর প্রতি আদালতের দেয়া নির্দেশনার ৭ম ধারায় বলা হয়েছে " In the entry process of the job since no age limit has been fixed in any of the provisions of law, so we are of the view that the government should take an immediate appropriate initiative for fixing the age limit of the applicants for the purpose of appointment of the teachers to the non government educational institution.

এখানে লক্ষ্যণীয় যে আদালতের নির্দেশনায় এন্ট্রী লেভেলে বয়স নির্ধারনের কথা বলা হয়েছে। এতে অনেকেই ভেবেছিলেন যে এন্ট্রি লেভেল বলতে নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ যারা নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন তারা ইতোমধ্যেই এন্ট্রি লেভেল পার হয়ে গিয়েছেন। তাদের ক্ষেত্রে আর বয়সের বিধিনিষেধ কার্যকর হবেনা। কারণ আদালত সার্টিফিকেটের মেয়াদ আজীবন করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ যুক্তির আলোকে তারা সরকারি চাকুরীতে নিয়োগের উদাহরণও টেনেছেন।যেমন: সরকারি চাকুরীতে প্রবেশের বয়স এখন ৩০। কোনো আবেদনকারী যদি ঠিক ৩০ বছর বয়সে কোনো সরকারি চাকুরীতে আবেদন করে তাহলে ৩০ বছর অতিক্রম করার পরও সে সেই চাকুরীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং উত্তীর্ণ হলে বয়স ৩০ বছর পার হয়ে গেলেও চাকুরীতে প্রবেশ করতে পারে।

তাদের এ যুক্তিটি সঠিক এবং NTRCA ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে আদালতের নির্দেশনার এ ব্যাখ্যাটি ধরেও কার্যক্রম চালাতে পারতো। 

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ১২/০৬/১৮ তারিখে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ)  এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০১৮ জারি করেছে। এ নীতিমালায় ১১.৬ ধারায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক,কর্মচারীদের চাকুরীতে প্রথম প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে সরাসরি চাকুরীতে প্রবেশের কথাই বলা হয়েছে, নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা বলা হয়নি। 

এখন জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় যদি চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ নির্ধারণ করা হয় সেক্ষেত্রে NTRCA ও চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করতে বাধ্য!

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে চাকুরীতে প্রবেশের বয়স ৩৫ নির্ধারণ করে ফেলেছে তা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে।শুধু বেসরকারি স্কুল কলেজই নয় বরং গত ১৯শে জুলাই ২০১৮ তারা পর্যায়ক্রমে "বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ( মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮" এবং "বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ " জারি করেছে। যার যথাক্রমে ১১.৬ এবং ১৪.৭ ধারায় চাকুরীতে প্রবেশের বয়স ৩৫ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বলা হয়েছে " বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের চাকুরীতে প্রথম প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর। তবে সমপদে বা উচ্চতর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইনডেক্সধারীদের জন্য বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতাদির সরকারি অংশ ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রদেয় হবে। বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হবার পর কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান /সহঃ প্রধান /শিক্ষক কর্মচারীকে কোনো অবস্থাতেই পুনঃনিয়োগ কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যাবেনা।"

ntrca এর ২০১৮ সালের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় ১২/০৬/১৮ তারিখ পর্যন্ত যাদের বয়স ৩৫ বা তার কম তারাই শুধুমাত্র শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারবেন।এক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রণালয় কতৃক প্রকাশিত সর্বশেষ এমপিও নীতিমালায় বর্ণিত বিধিমালা প্রযোজ্য হবে।আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে ২রা জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে এবং ৩৫ উর্ধ্ব নিবন্ধনকারীগণ আবেদন করতে পারেননি।

এদিকে ৩৫বছর উর্ধ নিবন্ধনকারীগণ তাদের আবেদন করার অধিকার আদায়ের জন্য আদালতে রীট করেছেন।আদালত তাদের পক্ষে রুল জারীও করেছেন।নিবন্ধনের নিয়োগের বয়স নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় কি আসে সেই অপেক্ষায় ছিলেন নিবন্ধনকারীগণ।আরো পড়ুন: ntrca update news সর্বশেষ কি


অবশেষে এনটিআরসিএ সনদধারী ও ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুনের পূর্বে পঁয়ত্রিশোর্ধ প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ ও মেধাতালিকা অনুসারে নিয়োগের নির্দেশনা দিয়ে রায় প্রদান করেছেন হাইকোর্ট।২২ মে ২০১৯ তারিখে ৩টি রিট পিটিশনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি এ.এফ.এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে.এম. কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া বলেন, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরির কোন বয়সসীমা নির্ধারিত ছিল না, কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ২০১৮ সালের ১২ জুন জারি করা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ নির্ধারণ করে দেয়। নীতিমালার ধারাবাহিকতায় এনটিআরসিএ শুধু ৩৫ অনূর্ধ্ব প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।নীতিমালা জারির পূর্বে যারা এনটিআরসিএ কর্তৃক সনদ প্রাপ্ত হয়েছেন এবং মেধা তালিকায় অন্তভুক্ত হয়েছেন কিন্তু ৩৫ বছর বয়স হয়ে গিয়েছে তাদের আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়নি।

ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া আরো বলেন, এ রায়ের ফলে যারা ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে এমপিও নীতিমালা জারির পূর্বে এনটিআরসিএ সনদ প্রাপ্ত হয়েছেন বয়স পঁয়ত্রিশ অতিক্রম করলেও তাদের এনটিআরসিএ’র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে আর কোন বাধা থাকলো না।






No comments:

Post a Comment