Breaking

Translate

Sunday, 9 September 2018

ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving license) ছাড়া গাড়ি চালানোর শাস্তি।

(Driving license) ছাড়া গাড়ি চালানো অবস্থায় ধরা পড়লে কি ঘটে?



সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রদের আন্দোলনের কারণে ট্রাফিক আইন নিয়ে সচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারিভাবেও ট্রাফিক আইন নিয়ে চলছে বেশ কড়াকড়ি। প্রতিদিন অসংখ্য সড়ক দূর্ঘটনা এবং প্রাণহানির একটি বড় কারণ ট্রাফিক আইনের প্রতি অবহেলা। আমরা যারা মটরসাইকেল ড্রাইভ করি তাদের অবশ্যই উচিৎ Driving license করে নেয়া।
কিন্তু আমরা সবাই জানি সরকারি অফিস তথা BRTA অফিসে কি পরিমাণ দুর্নীতি এবং হয়রানি চলে। Driving license করতে হলে অবশ্যই তা BRTA(Bangladesh Road Transport Authority) অফিস থেকেই করতে হয়। ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন BRTA website থেকে।দুর্নীতির কথা মনগড়া বলছিনা বরং জেনেশুনেই বলছি কারণ নিজেই দুর্নীতির স্বীকার হয়েছি। ড্রাইভিং লাইসেন্স তো দূরের কথা লার্নার কার্ডের জন্যও ঘুষ দিতে হয়েছে এবং বেশকয়েকদিন ধরে হয়রানির স্বীকার হওয়ার পর সেটি পেয়েছি। সেই লার্নার কার্ডেও আবার প্রিন্টিং এ অসংখ্য ভুলভ্রান্তি! শেষ পর্যন্ত Learner card এর মেয়াদ তিনমাস উত্তীর্ণ হয়ে গেছে অথচ পরীক্ষার জন্য ফোন নম্বর এ আর এসএমএস আসেনি। এই হলো বাংলাদেশের BRTA অফিসের প্রকৃত চিত্র! হয়রানির ভয়ে নিজেও আর পরবর্তীতে খোঁজ নেয়া হয়নি! কার এতো সময় আছে প্রতিদিন তাদের অফিসে গিয়ে সারাদিন ধর্ণা দিয়ে পড়ে থাকার?
এতো ঝামেলার কারণেই সম্ভবত বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে ঘুষের চুক্তিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে নেয় অনেকেই। এলাকা ভেদে এই চুক্তিভিত্তিক লাইসেন্সের মূল্য ১২০০০/--১৫০০০/- টাকা। এভাবে করিয়ে নিলে নাকি পরীক্ষা দেয়ারও প্রয়োজন হয়না!
অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন এভাবেই ঘুষ দিয়ে লাইসেন্সটি করিয়ে নেয়ার। হয়তো করিয়েও নিতাম কিন্তু বলা যায় অর্থাভাবেই আর করা হয়নি।ফলে যা হবার তাই হলো!
একদিন ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালীন পুলিশের কাছে ধরা পড়ে গেলাম। গাড়ির সকল কাগজপত্র ঠিক আছে শুধু Driving license নেই! মামলা করে দিলো পুলিশ! অপরাধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো। চলুন দেখি এই অপরাধের জন্য কি শাস্তির বিধান আছে ট্রাফিক আইনে?

মোটরযান আইন, ধারা-১৩৮ (ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত গাড়ি চালনা) :
কোন ব্যক্তি ৩ ধারা (১) উপধারা লংঘন করিয়া কোন মোটরযান চালাইলে সর্বোচ্চ চার মাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি পাইতে হইবে।

অতঃপর পুলিশ মটরসাইকেলের কাগজপত্র রেখে দিলো এবং "মটরযান আইন ১৯৮৮ মোতাবেক মামলা দায়ের করার অস্থায়ী রশিদ" নামের নিচের ফরমটি পূরন করে হাতে ধরিয়ে দিলো। ফরমে প্রায় একমাস সময় দেয়া হলো। এই সময়ের মধ্যে ফরমটি জেলা ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ে জমা দিয়ে সেখান থেকেই কাগজপত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।পুলিশ কাগজপত্র আগেই সেখানে পাঠিয়ে দেবে। এরপর গাড়িটি ছেড়ে দিলো এবং বলে দিলো ২০০/= টাকা জরিমানা দিতে হবে কাগজপত্র ফেরত নেয়ার সময়। অবশ্য টাকার পরিমাণের কথা ফরমে উল্লেখ করা নেই। 
যথাসময়ে জেলা ট্রাফিক পুলিশের কার্যালয়ে ফরমটি নিয়ে হাজির হলাম। কিন্তু ২০০ টাকা নয় পুরো ৫০০ টাকাই পরিশোধ করতে হলো। এরপর মটরসাইকেলের কাগজপত্র ফেরত পেলাম! ৫০০ টাকার কম কিছুতেই দিতে পারলাম না। ফিরে আসার পর একজন পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে আলাপ হলো । তিনি জিজ্ঞেস করলেন টাকা জমা নেয়ার সময় কোনো রশীদ দিয়েছে কিনা। বললাম না তো কোনো রশীদ তো দিলোনা! সত্যিই তো টাকা নিলো অথচ কোনো রশীদ তারা দেয়নি! তখন তিনি বললেন তাহলে হতে পারে ২০০/৩০০ টাকা জমা করে বাকিটা নিজের পকেটে ভরবে ! কারণ সর্বোচ্চ জরিমানা ৫০০ টাকা অর্থাৎ জরিমানা তার কমও করার সুযোগ আছে!
কি চমৎকার ব্যাবসা!কোনো লসের সুযোগ নেই! শুধু লাভ আর লাভ!

যাদের Driving license নেই এবং ড্রাইভিং লাইলেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো অবস্থায় ধরা পড়লে ঠিক কি ঘটতে পারে সে সম্পর্কেও ধারণা নেই তারা আশাকরি এই গল্পটি পড়ে উপকৃত হবেন। তবে এটি গল্প নয় সত্যি ঘটনা।
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর শাস্তি।

No comments:

Post a Comment