Breaking

Translate

Sunday, 26 August 2018

বাংলা কবিতার আসর, কবি সোয়েব হোসেনের পাঁচটি কবিতা।

বাংলা কবিতার আসর,স্বপ্নের কবি সোয়েব হোসেনের পাঁচটি কবিতা।


বাংলা কবিতা, bangla kobita, বাংলা সাহিত্য

আমাদের সমকালের সাহিত্য পাতায় কবি সোয়েব হোসেনের কাব্যগ্রন্থ (অপ্রকাশিত) খুঁজে চলি তাকে র কবিতাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলা কবিতার পাঠক, সমালোচকদের জন্য এই বিশেষ আয়োজন। নতুন নতুন তরুণ উদীয়মান কবিদের লেখা কবিতাগুলো আমরা প্রকাশ করে থাকি। বাংলা কবিতার সেই স্বর্ণযুগ হয়তো নেই। কিন্তু তরুণ অনেক কবিই এতে হাল ছেড়ে দেননি। লিখে চলেছেন বাংলা কবিতা নিরলসভাবে। তাদের এই পথ চলায় খানিকটা উৎসাহ যোগাতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
কবি সোয়েব হোসেন তাঁর নিজের উপাধি নিয়েছেন স্বপ্নের কবি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন বিশ্বকবি, কাজী নজরুল ইসলাম যেমন বিদ্রোহী কবি তেমনি কবি সোয়েব হোসেন নিজের উপাধি হিসেবে পছন্দ করেছেন বা বেছে নিয়েছেন স্বপ্নের কবি! অবশ্য পার্থক্য হলো এই সকল বিখ্যাত কবির উপাধি গুনিজনেরা স্বপ্রণোদিত হয়ে দিয়েছেন আর আমাদের কবি সোয়েব হোসেন নিজেই স্বপ্রণোদিত হয়ে এই উপাধি ধারণ করেছেন। সে যাই হোক এতে অন্যায় তো কিছু হয়নি। আমাদের কবি সোয়েব হোসেনের অনেক কিছুই এমনি ব্যাতিক্রমী! আর ব্যাতিক্রমী স্বভাব কবিদেরই মানায় ভালো।

খুঁজে চলি তাকে : ৮টি কবিতা। 

তাহলে চলুন উপভোগ করা যাক কবি সোয়েব হোসেনের কবিতা।



                               সুখী হও


মাঠ ফেটে চৌচির চৈতি খরায়
আমি ফেটে অস্টচির বিরহের ব্যাথায়।
জ্বলছে আগুন সারাক্ষণ বুকের পাঁজরের তলে
মিটে না সে জ্বালা সাত সাগরের জলে।
বসে থাকি মাঠে-ঘাটে রাখাল বালক সেজে
হঠাৎ দেখি বাড়িতে তোমার বিয়ের বাজনা বাজে।

কেমন করে বললে তুমি বিয়ের আসরে কবুল
তবে কি আমার ভালোবাসা ছিলো সব ভুল?
সুখী হও তুমি এই আশাই আমি করি
উৎসবের বন্যায় ভেসে যাক আজ তোমার বাড়ি। 


                          ভোলা যায় না


যত বার এসেছি এই ছোট্ট নদীর বাঁকে
তীরের জটঅলা বট গাছের কালো ছায়ায়
তত বার হৃদয়ের মাঝে ভাসে একটি মুখ 
যে মুখ দূরে সরে গেছে জীবন থেকে।
সাক্ষী আমার নদীর শান্ত ঘোলা জল
সাক্ষী আমার বটের অসংখ্য পাতারা
সাক্ষী আমার ভাসমান কচুরিপানার দল
সে কত কাছের মানুষ বুকের ঘরে।
হঠাৎ না বলে কোথায় চলে গেলো
ভেবে পাইনা আমি সারাদিন হিসাব করে।
আসবেনা জানি আমার লক্ষীছাড়া জীবনে
তবু কেন ভুলিতে পারিনা সেই হৃদয়হীনাকে?


                   অপ্রকাশিত ভালোবাসা


একসাথে পড়লাম পাঁচটি বছর
পাশাপাশি বসতাম দুজন ক্লাসরুমে
কিছুদিন পর বেজে উঠবে বিদায়ের ঘন্টা
তবুও বলা হলো না তাকে 'ভালবাসি '।
কথাটি বুকের পাঁজরের নিচে
চাপা পড়ে ছটফট করে চলে।
কলেজের ক্যাম্পাসে আসবো না যখন
সে তখন থাকবে দূর থেকে আরও বহুদূর
স্মৃতির জানালা খুলে চেয়ে দেখবো
তার সেই চঞ্চল হাঁটা-চলা।
হয়তো তাকে কোনো দিন খুব মনে পড়লে
নির্জন বালুচরে বসে চোখের পানি ফেলবো। 


                         তোমার স্মরণে


তোমার খড়ে তৈরি কুঁড়ে ঘরটির খোঁজে
পদ্মার ধু ধু বালুচরে ঘুরেছি অনেক।
পেলাম না ঘরের ঠিকানা
রূপকথার দেশে গেছ কি? 
সারা পদ্মার পার দেখেছি বারবার
নতুন মনের খোঁজ করবোনা কখনো
তোমার স্মরণে কুঁড়ে ঘরে বাস করি।
দেখা হোক বা না হোক আবার
তোমার স্মৃতিকে প্রাণে নিয়ে আছি।


                          অন্য জীবন


আমার বিরহের কাহিনী মানুষের ঘরে ঘরে
রূপকথার মতো থাকবে হাজার হাজার বছর।
মাঝে মাঝে তোমার মায়াবী কথাগুলো
আঘাত করে আমাকে। ইচ্ছা হয়
দেখে আসি দুই চোখের জলে ভিজে

ফাগুনের দিনে মাঠের ভিতর দিয়ে আসা
এলোমেলো বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যেত
             তারপর বিকেলের রোদে 
বড় হতো আমাদের কালো ছায়া।
হাটতাম আর মনে মনে ভাবতাম
এই পথের যদি শেষ না হতো কখনো।
কী করে সেইসব দিনের পতন হলো?
এখন একা আমি ধুলামাখা মাটিতে। 

বয়ে চলা নদীর তীরে তীরে
বিরহের গান গাইতে গাইতে
কেটে যাবে আমার আমৃত্যু সময়।





কবি সোয়েব হোসেন
বোনারপাড়া, সাঘাটা, গাইবান্ধা
এম এ (সম্মান) , ইতিহাস।

No comments:

Post a Comment