Breaking

Translate

Wednesday, 16 January 2019

নিবন্ধনের বয়স নির্ধারণ | নিবন্ধনের নিয়োগের বয়স ৩৫ নিয়ে আদালতে নতুন রীট

শিক্ষক নিবন্ধনের বয়সসীমা

নিবন্ধনের বয়স নিয়ে আলোচনার আগে বলতে হয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা জানেন বিভিন্ন জটিলতার কারণে দুই বছরের অধিক সময় ধরে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে শিক্ষক সংকট ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা ব্যাবস্থা। প্রজ্ঞাপন জারি করে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কমিটির হাত থেকে তুলে নিয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন এবং প্রত্যয়ন কতৃপক্ষ NTRCA এর হাতে অর্পণ করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত ২০১৬ সাল নাগাদ একটি নিয়োগই তারা সম্পন্ন করতে পেরেছে। এরপরই নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে নিবন্ধনকারীদের রীট পিটিশনের সম্মুখীন হতে হয় তাদের। ফলে আদালতের নির্দেশে মীমাংসার আগ পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।ফলে নিবন্ধনের নিয়োগের বয়স ৩৫ করায় চিন্তিত নিবন্ধনকারীগণ।শিক্ষক নিবন্ধনের বয়স নির্ধারিত হলেও সময়মতো নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় হতাশ অনেক নিবন্ধনকারী।নিবন্ধনের নিয়োগের বয়স নির্ধারিত হয়েছে নতুন এমপিও নীতিমালায়।

সম্প্রতি ২০১৭ সালের ১৪ই ডিসেম্বর নিবন্ধনকারীদের দায়ের করা ১৬৬টি রীট পিটিশনের মীমাংসা করে একটি রায় দিয়েছে আদালত। এতে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার নব্বুই কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধনকারীদের একটি সমন্বিত মেধাতালিকা করে নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফলে নতুন করে আবার শিক্ষক নিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যেই গত ১০ই জুলাই নিবন্ধনকারীদের সেই কাঙ্ক্ষিত মেধাতালিকা প্রকাশ করেছে NTRCA। নিবন্ধনকারীগণ শুধু যথাসময়ে সার্কুলার এবং গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ দেয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।কিন্তু পুনরায় জটিলতা দেখা দিয়েছে চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে।

আদালত সরকার তথা NTRCA কে বলেছে এসব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরীতে প্রবেশের একটি বয়সসীমা নির্ধারণ করে দিতে যা বিগত সময়ে ছিলোনা।NTRCA এর প্রতি আদালতের দেয়া নির্দেশনার ৭ম ধারায় বলা হয়েছে " In the entry process of the job since no age limit has been fixed in any of the provisions of law, so we are of the view that the government should take an immediate appropriate initiative for fixing the age limit of the applicants for the purpose of appointment of the teachers to the non government educational institution.

এরই প্রেক্ষিতে গত ৩রা জুন ২০১৮ শিক্ষা মন্ত্রনালয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরীতে প্রবেশের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ করতে NTRCA কে নিয়ে একটি সভার আয়োজন করে। কিন্তু সেই সভা থেকে এখন পর্যন্ত অর্থাৎ এই আর্টিকেলটি লেখা পর্যন্ত কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে চাকুরীতে প্রবেশের কোনো বয়সসীমাও নির্ধারণ করা হয়নি NTRCA এর পক্ষ থেকে।

এখানে লক্ষ্যণীয় যে আদালতের নির্দেশনায় এন্ট্রী লেভেলে বয়স নির্ধারনের কথা বলা হয়েছে। এতে অনেকেই ভেবেছিলেন যে এন্ট্রি লেভেল বলতে নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ যারা নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন তারা ইতোমধ্যেই এন্ট্রি লেভেল পার হয়ে গিয়েছেন। তাদের ক্ষেত্রে আর বয়সের বিধিনিষেধ কার্যকর হবেনা। কারণ আদালত সার্টিফিকেটের মেয়াদ আজীবন করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ যুক্তির আলোকে তারা সরকারি চাকুরীতে নিয়োগের উদাহরণও টেনেছেন। যেমন: সরকারি চাকুরীতে প্রবেশের বয়স এখন ৩০। কোনো আবেদনকারী যদি ঠিক ৩০ বছর বয়সে কোনো সরকারি চাকুরীতে আবেদন করে তাহলে ৩০ বছর অতিক্রম করার পরও সে সেই চাকুরীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং উত্তীর্ণ হলে বয়স ৩০ বছর পার হয়ে গেলেও চাকুরীতে প্রবেশ করতে পারে।

তাদের এ যুক্তিটি সঠিক এবং NTRCA ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে আদালতের নির্দেশনার এ ব্যাখ্যাটি ধরেও কার্যক্রম চালাতে পারতো। 

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ১২/০৬/১৮ তারিখে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ)  এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০১৮ জারি করেছে। এ নীতিমালায় ১১.৬ ধারায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক,কর্মচারীদের চাকুরীতে প্রথম প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে সরাসরি চাকুরীতে প্রবেশের কথাই বলা হয়েছে, নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা বলা হয়নি। 


এখন জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় যদি চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ নির্ধারণ করা হয় সেক্ষেত্রে NTRCA ও চাকুরীতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করতে বাধ্য! এখন প্রশ্ন ওঠে তাহলে নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারণ করা হবে কিভাবে?

ধরা যাক যদি নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ নির্ধারণ করা হয় এবং একজন পরীক্ষার্থী যদি তার বয়স শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করে তাহলে তার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুনরায় চাকুরীর জন্য আবেদন করতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বয়স ৩৫ অতিক্রম হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে সে চাকুরীতে প্রবেশ করবে কিভাবে?সুতরাং এই সমস্যার সমাধান হবে কিভাবে?তাহলে কি নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বয়স নির্ধারণ করে দেয়া হবেনা?

যদি নিবন্ধন পরীক্ষাকে এন্ট্রি লেভেল ধরে নিয়ে নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বয়স নির্ধারণ করা হতো তাহলে ১ম থেকে এখন পর্যন্ত উত্তীর্ণ সকল নিবন্ধনকারীই চাকুরীতে নিয়োগের যোগ্য থাকতো এমনকি তাদের বয়স ৩৫ অতিক্রম করলেও। আর যদি চাকুরীতে প্রবেশকে এন্ট্রি লেভেল ধরা হয় তাহলে ৩৫ প্লাস বয়সীরা সবাই ঝরে পড়বে! কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকেই যায় তাহলে পঁয়ত্রিশের নিচে ঠিক কত বছর বয়স পর্যন্ত একজন পরীক্ষার্থী নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে?প্রশ্নটির উত্তর পেতে হয়তো আরো বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে সবাইকে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে নিবন্ধন পরীক্ষা নয় বরং সরাসরি চাকুরীতে প্রবেশের বয়সই ৩৫ নির্ধারণ করে ফেলেছে তা স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। শুধু বেসরকারি স্কুল কলেজই নয় বরং গত ১৯শে জুলাই ২০১৮ তারা পর্যায়ক্রমে "বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ( মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮" এবং "বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ " জারি করেছে। যার যথাক্রমে ১১.৬ এবং ১৪.৭ ধারায় চাকুরীতে প্রবেশের বয়স ৩৫ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বলা হয়েছে " বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের চাকুরীতে প্রথম প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর। তবে সমপদে বা উচ্চতর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইনডেক্সধারীদের জন্য বয়সসীমা শিথিলযোগ্য। শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতাদির সরকারি অংশ ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রদেয় হবে। বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হবার পর কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান /সহঃ প্রধান /শিক্ষক কর্মচারীকে কোনো অবস্থাতেই পুনঃনিয়োগ কিংবা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যাবেনা। "

এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এভাবে চাকুরীতে প্রবেশের বয়স ৩৫ নির্ধারণ করায় ৩৫ উর্ধ্ব নিবন্ধনকারীগণ আর চাকুরীর জন্য আবেদন করতে পারবেন না। অনেকে মনে করেন এটি আদালতের নির্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক হয় কারণ আদালত সার্টিফিকেটের মেয়াদ আজীবন করে দেয়ার কথা বলেছে। তবে এর বিপক্ষের যুক্তিতে শোনা যায় এখন যেমন সরকারি চাকুরীতে বয়স ৩০ হওয়ার পরে আর আবেদন করা যায়না যদিও একাডেমিক সার্টিফিকেটের মেয়াদ ঠিকই আজীবন থেকে যায় এখানেও তেমনি হবে। সার্টিফিকেটের মেয়াদ আজীবনই থাকবে কিন্তু ৩৫ বছর অতিক্রম করার পরে আর কেউ আবেদন করতে পারবেন না।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে এন্ট্রি লেভেলের বিষয়টি আদালত নির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা না করায় ntrca চাকুরীতে প্রথম প্রবেশের বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ করলেও আদালতের নির্দেশনার সাথে তা কিছুতেই সাংঘর্ষিক হয়না।

আরো পড়ুন :  NTRCA মেধাতালিকা

সর্বশেষে বলা যায় যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার এখনও কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছেনা বরং তারা এটিই বাস্তবায়ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবেই অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়ে যায়। ৩৫ উর্ধ্ব নিবন্ধনকারীগণ সময়োপযোগী কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারলে ভবিষ্যতে হয়তো তাদের পক্ষেও ইতিবাচক কিছু হতে পারে।

অবশেষে নিবন্ধনকারীদের আবেদনের বয়স বিষয়ে আমাদের দেয়া তথ্যই সঠিক বলে প্রমাণিত হলো।ntrca গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ১২/০৬/১৮ তারিখ পর্যন্ত যাদের বয়স ৩৫ বা তার কম তারাই শুধুমাত্র শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারবেন।এক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রণালয় কতৃক প্রকাশিত সর্বশেষ এমপিও নীতিমালায় বর্ণিত বিধিমালা প্রযোজ্য হবে।আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে ২রা জানুয়ারি ২০১৯।

এদিকে ৩৫বছর উর্ধ নিবন্ধনকারীগণ তাদের আবেদন করার অধিকার আদায়ের জন্য আদালতে রীট করেছেন।আদালত তাদের পক্ষে রুল জারীও করেছেন।নিবন্ধনের নিয়োগের বয়স নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় কি আসে তাই এখন দেখার বিষয়।শিক্ষক নিবন্ধন সংক্রান্ত সকল খবর জানতে নিয়মিত পড়ুন সমকাল ব্লগ।


বেসরকারি স্কুল কলেজের নতুন জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ সরাসরি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন। 


ডাউনলোড করুন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ( মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ 


বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮

শিক্ষক নিবন্ধন






No comments:

Post a Comment