Breaking

Translate

Monday, 15 October 2018

NTRCA কতৃক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০১৮।

এনটিআরসিএ কতৃক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০১৮।

NTRCA news NTRCA খবর বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ ২০১৮

সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কতৃপক্ষ NTRCA র বিরুদ্ধে নিবন্ধনকারীদের হাইকোর্টে করা রীট পিটিশনের রায় প্রকাশ হওয়ার পর রায় বাস্তবায়ন এবং নিয়োগের সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে চলছে নানারকম জল্পনা কল্পনা। সবার প্রশ্ন রায় বাস্তবায়নে কিভাবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে NTRCA? কেউ কেউ নিয়োগে রীটকারীদের অগ্রাধিকার থাকবে বললেও রায় বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে রায় সার্বজনীন হয়েছে অর্থাৎ নিয়োগের ক্ষেত্রে রীটকারী ননরীটকারী নির্বিশেষে  সকল নিবন্ধনকারীদের সমানভাবে একটি সমন্বিত জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে।

এবার চলুন প্রকাশিত রায়ের আলোকে সম্ভাব্য নিয়োগ প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখা  যাক। রায়ের শেষের দিকে বলা আছে " It is very much notable that the NTRCA certification process has began for quite some time since 2005 and by now 13 batches have entered the examinations and there must be a concrete upto date data base, so that the latest merit list as per subject I.e. subject wise merit list be available and that should be made /published through publication in the official web page. "

ভাবানুবাদ : ইহা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে এনটিআরসিএর সনদ প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অল্প কিছুদিন হলো ২০০৫ সাল থেকে এবং এখন পর্যন্ত ১৩টি ব্যাচ পরীক্ষা দিয়েছে। সেখানে অবশ্যই একটি নিরেট হালনাগাদ করা তথ্যভান্ডার থাকতে হবে যাতে বিষয়ভিত্তিক সর্বশেষ মেধাতালিকা বিদ্যমান থাকে এবং তা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে!

এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে কাদেরকে নিয়ে মেধাতালিকা হবে। ২০০৫ সালের ১ম নিবন্ধন থেকে এখন পর্যন্ত উত্তীর্ণ সকল নিবন্ধনকারীদের নিয়ে বিষয়ভিত্তিক মেধাতালিকা করা হবে (যার মধ্যে রীটকারীদেরও নাম থাকবে তবে অবশ্যই তাদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে)। প্রতি বছর এই মেধা তালিকা আপডেট করবে এনটিআরসিএ।



এখন মজার বিষয় হলো এই মেধাতালিকা থেকে নিয়োগ দেবে কিভাবে? আপনাদের কি মনে হয় মেধাতালিকা থেকে নিজেদের পছন্দমত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগ দেবে তারা? কাকে কিভাবে কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেবে? এর উত্তরও আছে রায়ের একেবারে শেষ অংশে।
"Every time the advertisement is made upon preparing the requirement list on demand from the educational institutions, the applicants should have access to the list and would apply according to their choices and be chosen as per national merit list that is updated every year."

ভাবানুবাদ : প্রত্যেকবার নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাহিদাপত্র প্রস্তুতের ভিত্তিতে। শুন্য পদের তালিকা প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হতে হবে এবং প্রার্থী তার পছন্দমত প্রতিষ্ঠানে আবেদন করবে। প্রতি বছরের সর্বশেষ হালনাগাদ করা জাতীয় মেধাতালিকা হতে তাদের নির্বাচন করতে হবে। 



তার মানে কি বুঝলেন? মেধাতালিকায় নাম থাকা একজিনিস আর নিয়োগ হওয়া আরেক জিনিস। মেধাতালিকায় ১ম থেকে বর্তমানের ১৩শ পর্যন্ত উত্তীর্ণ সকলেরই নাম থাকবে। কারো নামই বাদ পড়বে না। তবে বিষয়ভিত্তিক করা এই মেধাতালিকায় নামগুলো থাকবে প্রাপ্ত নম্বরের ক্রমানুসারে। প্রতি বছর তালিকা আপডেট হওয়ার সময় কারো নাম যাবে উপরে কারো নাম নিচে নেমে আসবে। যাদের চাকুরী হয়ে যাবে শুধু তাদের নামই তালিকা থেকে মুছে যাবে। যেমনঃ ধরুন গণিতে আপনার নম্বর ৮০ তা আপনি যে ব্যাচেরই হোন না কেন। আপনার অবস্থান তালিকায় ৪০ নম্বরে। আপনার উপর থেকে ৩৫ জনের চাকুরী হয়ে গেলে পরের বছর আপনার অবস্থান হবে ৫ নম্বরে! কিন্তু পরের বছর নতুন নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের মধ্যে যাদের,আপনার চেয়ে বেশি নম্বর থাকবে তারা আবার তালিকায় আপনার উপরে চলে যাবে এবং চাকুরী হওয়ার সম্ভাবনাও আপনার চেয়ে বেশি থাকবে তাদের। এভাবে তালিকায় আপনার অবস্থান প্রতি বছর পরিবর্তন হতে থাকবে চাকুরী হওয়ার আগ পর্যন্ত! এই তালিকা হবে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত, উন্মুক্ত! এখানে রীটকারী ননরিটকারী বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই!

এ তো গেলো মেধা তালিকার কথা! এখন আসুন নিয়োগের কথায়! ২য় অনুবাদ পড়ে বুঝতে পারছেন নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে শুন্যপদের প্রেক্ষিতে। ঠিক গতবারের মতো এবারো নিজের পছন্দমত প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করতে হবে। এরপর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আবেদনকারীদের মধ্য থেকে জাতীয় মেধাতালিকা অনুযায়ী প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে! গতবারের তুলনায় এবার নতুন নিয়মে একটাই পার্থক্য থাকবে আর তা হলো জেলা, উপজেলা কোটা বিলুপ্ত হবে! 

এ থেকে বোঝা যাচ্ছে মেধাতালিকায় নাম থাকার অর্থ নিয়োগ পাওয়া নয়। কারণ মেধাতালিকায় ১ম থেকে সর্বশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নিবন্ধনকারী সকলেরই নাম থাকবে প্রাপ্ত নম্বরের ক্রমানুসারে। নিয়োগের জন্য নিজ নিজ পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হবে বিষয়ভিত্তিক সমন্বিত জাতীয় মেধাতালিকা অনুযায়ী। 



উল্লেখ্য আদালত NTRCA কে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে এই মেধাতালিকা প্রকাশ করতে বলেছে। এর অর্থ এই নয় যে উক্ত ৯০ দিনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া ভিন্ন বিষয় যা আগেই বলা হয়েছে।
আরো পড়ুন : জেনে নিন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে কি কি তথ্য চেয়েছে NTRCA।

আলোচিত মেধা তালিকার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এ তালিকায় নম্বরের দিক থেকে এগিয়ে থাকাই চাকুরী নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র মাধ্যম নয়। আপনি যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করবেন সেই প্রতিষ্ঠানে আপনার চেয়ে বেশি নম্বর প্রাপ্ত কেউ আবেদন করে থাকলে তার চাকুরীই নিশ্চিত হবে। আবার উক্ত প্রতিষ্ঠানে আপনিই সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত আবেদনকারী হলে আপনার চাকুরীই নিশ্চিত হবে! সহজ কথায় আপনার নিয়োগ নির্ভর করবে জাতীয় মেধাতালিকায় আপনার অবস্থানের উপর নয় বরং আপনি যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদন করছেন সেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে  আবেদন করা অন্যান্য প্রার্থীদের সাথে আপনার নম্বরের পার্থক্যের উপর। অর্থাৎ আপনাকে সারা বাংলাদেশের সকল নিবন্ধনকারীর সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবেনা। প্রতিযোগিতা করতে হবে যেসকল প্রতিষ্ঠানে আবেদন করবেন সেসকল প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা অন্যান্য প্রার্থীদের সাথে।

আরো পড়ুন : নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ নাকি চাকুরীতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫?




No comments:

Post a Comment