Breaking

Translate

Friday, 11 May 2018

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং টিউটোরিয়াল ২য় পর্ব।

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং টিউটোরিয়াল ২য় পর্ব। 

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে ১ম পর্ব লেখার বেশ কিছুদিন পরে ২য় পর্ব লিখছি। যারা এখনো ১ম পর্ব পড়েননি তারা আশাকরি পড়ে নেবেন। আজকের পর্বে আলোচনা করা হবে কিভাবে আমাজন এসোসিয়েট হিসেবে সঠিকভাবে একাউন্ট করবেন। একাউন্ট করা খুবই সহজ। তবে কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের ফোন নম্বর দিয়ে একাউন্ট করা যেতো না। বিভিন্ন কৌশলে মোবাইল এপ বা সফটওয়্যার দিয়ে ভার্চুয়াল ইউএসএ নম্বর দিয়ে একাউন্ট করতে হতো। কিন্ত বর্তমানে বাংলাদেশের ফোন নম্বর দিয়েই সরাসরি একাউন্ট ওপেন করা যায়। উল্লেখ্য যে আমাজনে এফিলিয়েট একাউন্ট করতে ফোন ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক।

আমাজন এসোসিয়েটে এপ্লিকেশন করার পূর্ব প্রস্তুতি:

একাউন্ট করার জন্য অবশ্যই আপনার একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট অথবা ফ্রী সাব ডোমেইন ব্লগ থাকতে হবে। তাই নিজস্ব ওয়েবসাইট না থাকলে আগেই একটি ফ্রী সাব ডোমেইন ওয়েবসাইট তৈরি করে নিন। এক্ষেত্রে ওয়ার্ডপ্রেস বা ব্লগার ব্যাবহার করতে পারেন। আমি ব্লগার দিয়ে শুরু করেছিলাম কারণ এর ফিচারগুলো আমার কাছে সহজ এবং সুন্দর মনে হয়েছে। আমার এই ব্লগটিও ব্লগারে তৈরী। এটি খুবই সহজ কাজ। না পারলে ইউটিউবে বা বিভিন্ন ব্লগে এ বিষয়ে অনেক টিউটোরিয়াল আছে, শুরু করার আগে সেগুলো দেখে নিতে পারেন। পরবর্তীতে এই ব্লগেও এ বিষয়ে টিউটোরিয়াল লেখা হতে পারে।আমাজনে একাধিক ব্লগ বা ওয়েবসাইট add করা যায়।একাউন্ট করার পরেও যখন খুশি নতুন কোনো ওয়েবসাইট বা ব্লগ add করা যাবে। 

আমাজন এফিলিয়েটে এপ্লিকেশন প্রক্রিয়া:


এপ্লিকেশন প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ। প্রথমে তাদের এসোসিয়েটস পেজে চলে যান। পেজের ডানপাশে উপরে ইউএসএর পতাকা দেখাচ্ছে কিনা লক্ষ্য করুন। কারণ যে দেশের পতাকার চিহ্ন সিলেক্ট করবেন সেই দেশেই প্রোডাক্ট সেল করতে হবে। একাধিক দেশে আমাজনের শাখা রয়েছে। তবে ইউএসএতে মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে ইউএসএ সিলেক্ট করতে হবে। সাধারণত এটিই ডিফল্ট হিসেবে থাকে। এখন Join now বাটনে ক্লিক করুন। এরপরই ফরম চলে আসবে। চারটি ধাপে তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরন করতে হবে। প্রথমেই আসবে Account information। আপনার নাম, ইমেইল, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি সাধারণ তথ্য দিয়ে এটি সঠিকভাবে পূরন করার পর আসবে Website and mobile app list। এখানে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগের লিংকটি add করে দিতে হবে। সঠিকভাবে এই ধাপটি সম্পন্ন করার পরে আসবে Profile। এখানে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। এই অংশটিই সবচেয়ে দীর্ঘ। তবে ঘাবড়ানোর কিছুই নেই। ভুল হলেও পরে আবার একাউন্টে লগইন করে সংশোধন করে নেয়া যাবে। এই অংশের সাথে আপনার একাউন্ট এপ্রুভ হওয়া না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই নির্ভয়ে যতটুকু বোঝেন সেভাবেই পূরন করে ফেলুন। এরপরেই আসবে সর্বশেষ Identity verification। এখানে আপনার কান্ট্রি কোড +880 সিলেক্ট করে Call now বাটনে ক্লিক করুন। আপনার দেয়া নম্বরে কল আসার পর একটি পিন নম্বর বলবে। পিন কোডটি সাথে সাথে ডায়াল প্যাডে তুললেই ভেরিফিকেশনের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। এরপর Terms and conditions এ agree করে Next বাটনে চাপলেই একাউন্ট ওপেন করার কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। এরপর থেকেই শুরু করতে পারেন আপনার এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের কাজ।

কিভাবে কাজ করতে হয়, কিভাবে সফল হওয়া সম্ভব এবং আরো কি কি গুরুত্বপূর্ণ করনীয় রয়েছে এসব নিয়ে আগামীতে আবারো লেখা হবে তাই নিয়মিত ব্লগে চোখ রাখুন।


এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। তা হলো আপনার ফোন নম্বর দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। একই নম্বর দিয়ে কখনোই একাধিক একাউন্ট খুলতে যাবেননা এবং নিজের মোবাইল বা কম্পিউটারে অন্য কারো আমাজন এফিলিয়েট একাউন্টে লগইন করতে দেবেননা এবং নিজেও অন্য কারো ডিভাইস ব্যাবহার করে নিজের একাউন্টে লগইন করা থেকে বিরত থাকুন। এক্ষেত্রে আমার নিজের ঘটনা দিয়েই আজকের পর্বটি শেষ করছি। আমি প্রথম একাউন্ট করেছিলাম ২০১৭ সালের অক্টোবরে। তখন বাংলাদেশের ফোন নম্বর দিয়ে একাউন্ট করা যেতোনা। ভার্চুয়াল ইউএসএ নম্বর দিয়ে একাউন্ট করতে হতো। সিস্টেম জানা ছিলোনা তাই একজন পরিচিত ভাইয়ের কাছ থেকে করে নিয়েছিলাম। সে একই ভার্চুয়াল নম্বর দিয়ে তাঁর মোবাইল থেকে নিজের এবং আমার দুজনেরই একাউন্ট করেছিলো। এভাবে একসাথে দুজন কাজ শুরু করার পরে হঠাৎ একদিন সে ভুল করে আমাজনের একটি শর্ত ভেঙে ফেলে। ফলে রাতারাতি তার একাউন্টে থাকা সমস্ত ডলারসহ একাউন্টটি ব্যান করে দেয় আমাজন এবং সেইসঙ্গে আমার একাউন্টটিও ডলারসহ ব্যান হয়ে যায়। কারণ হিসেবে ইমেইলে আমাকে আমাজনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে একটি ব্যান হওয়া একাউন্টের সাথে আমার একাউন্টের সম্পর্ক থাকায় আমার একাউন্টটিও ব্যান করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে কোনো আপিল করলেও গ্রহনযোগ্য হবেনা আর ডলারগুলোও ফেরত দেয়া হবেনা! এরচেয়েও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো আমার নিজের নাম, পরিচয় এবং আইপি এড্রেস দিয়ে যতবারই নতুন একাউন্ট করবো ততবারই ব্যান করবে আমাজন। কাজেই আমার জন্য একটাই উপায় রয়েছে আমাজনে এফিলিয়েট হিসেবে পুনরায় কাজ করতে হলে। সেটি হলো সম্পূর্ণ নতুন একটি ফোন বা কম্পিউটার থেকে নিজের কোনো রিলেটিভের নাম পরিচয় ব্যাবহার করে কাজ করা! সুতরাং সিরিয়াসলি কাজ করতে চাইলে এরকম পরিনতি হওয়ার আগেই সতর্ক থাকা উচিত। আশা করি আমার অভিজ্ঞতাটি অনেকের উপকারে আসবে এজন্যই শেয়ার করা।

No comments:

Post a Comment