Breaking

Translate

Monday, 7 August 2017

ডাউনলোড করুন হযরত আলীর রাঃ বই নাহাজ আল বালাঘা PDF।

আলীর রাঃ বই নাহাজ আল বালাঘা!বইটির বিশেষ আকর্ষণ এর প্রচ্ছদে পাবেন আলীর রাঃ ছবি! 




হযরত আলীর রাঃ লেখা দুটি বইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়।'নাহাজ আল বালাঘা'এবং 'দিওয়ান ই আলী'!নাহাজ আল বালাঘার প্রচ্ছদে রয়েছে হযরত আলীর রাঃ ছবি।বাঙালি পাঠকদের জন্য সুখবর হলো আরবীতে লেখা মূল বইটির বাংলা অনুবাদ হয়েছে এবং অনুবাদ বইয়ের প্রচ্ছদেও ছবিটি হুবহু রাখা হয়েছে। অনলাইনে রকমারি ডট কম থেকে বইটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন।আপনার বাড়ির নিকটবর্তী কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বইটি পেয়ে যাবেন অর্ডার করার দু তিন দিনের মধ্যেই!নাহাজ আল বালাঘা বইটিতে রয়েছে হযরত আলীর রাঃ ২৩৯টি ভাষন(খোৎবা),৭৯টি পত্র ও নির্দেশনামা এবং ৪৮৯টি উক্তি।বইটির সঙ্কলক আশ শরীফ আর রাজী এবং বাংলা অনুবাদক জেহাদুল ইসলাম।
টাকা খরচ করে যারা বইটি সংগ্রহ করতে ইচ্ছুক নন কিন্তুু বইটি সম্পর্কে কৌতুহল অনুভব করছেন তাদের জন্য রয়েছে বইটির PDF ভার্সন।কাজেই অতি সহজেই এখানে ক্লিক করে ১৯ এমবির বইটি ডাউনলোড করে পড়ে নিতে পারেন!এমনকি যদি প্রশ্ন করেন বইটির কোনো মোবাইল এপস আছে কিনা?উত্তর হলো হ্যাঁ তাও আছে!এখানে ক্লিক করে বইটির মোবাইল এপস ডাউনলোড করে নিন আর পড়ে ফেলুন জলদি!তবে একটি বিষয় আগেই বলে রাখি প্রিন্ট বই ছাড়া ইবুক কিংবা এপসে হযরত আলীর রাঃ সেই ছবিটি পাবেন না!ছবিটি শুধুমাত্র প্রিন্ট বইয়েই রয়েছে।আর নাহাজ আল বালাঘার বাংলা অর্থ হলো বাগ্মীতার ঝর্ণাধারা।
যে কোনো বইয়ের শুরুতে লেখক বা অনুবাদক কতৃক লিখিত ভূমিকা থেকে বইটি সম্পর্কে একটি পরিস্কার ধারণা পাওয়া যায়। এজন্য বইটির বাংলা অনুবাদক জেহাদুল ইসলাম কতৃক লিখিত ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশবিশেষ এখানে উদ্ধৃত করে দিলাম। এতে পাঠকের সুবিধা হবে বইটি পড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে। 

অনুবাদকের কথা : 

আমীরুল মোমেনীন আলী ইবনে আবি তালিব ৬০০ খ্রীষ্টাব্দের ১৩ই রজব অর্থাৎ ২৩ হিজরী পূর্ব সনের ১৩ই রজব শুক্রবার জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি রাসুলের সাঃ চাচা আবু তালিবের পুত্র। রাসুলের সাঃ দাদা আব্দুল মোত্তালিব ইন্তেকাল করার পর তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁকে অতি যত্নে লালন পালন করেন। হযরত খাদিজাকে রাঃ বিয়ে করার পর হতে রাসুলের সাঃ আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য এসেছিলো। এসময় আরবে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়ার কারণে আবি তালিবের সংসারের অস্বচ্ছতার কথা বিবেচনা করে রাসুল সাঃ শিশু আলীকে তাঁর সংসারে এনে পরম যত্নে লালন পালন করতে লাগলেন। এমনিতেই জন্মের পর হতে আলীর প্রতি রাসুলের সাঃ অগাধ ভালবাসা ছিলো। এখন নিজের সংসারে এনে তিনি আলীকে নিজের মনের মতো করে গড়ে তুলতে লাগলেন। ফলে আলী রাসুলের সাঃ আচার আচরণ ও আখলাক রপ্ত করে এক সুমহান চরিত্রের অধিকারী হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন রিসালাত প্রকাশ-পূর্ব সময় হতে রাসুলের সার্বক্ষণিক সহচর। তাই তিনি দাবি করে বলেছেন " হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় আমি ও খাদিজা রাঃ ব্যাতিত আর কোনো সাহাবা রাসুলকে দেখেননি।" রিসালাত প্রকাশের সাথে সাথেই তিনি রাসুলের বক্তব্যে ঈমান এনে তাঁকে আল্লাহর রাসুল বলে স্বীকার করেন। কালক্রমে তিনি একজন মহাবীর হিসেবে শুধুমাত্র তাবুকের যুদ্ধ ব্যাতিত রাসুলের জীবদ্দশায় ইসলামের সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বিরোধী বাহিনীর বীরগণকে পরাভূত করে ইসলামের ঝান্ডা সমুন্নত রেখেছিলেন। সাহাবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবচেয়ে জ্ঞানী। তাই রাসুল বলেছিলেন আমি জ্ঞানের মহানগরী এবং আলী রাঃ উহার দরজা। তিনি আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রের প্রবর্তক এবং ইসলামের সর্বপ্রথম লেখক হিসেবে গণ্য। তার পুস্তকের নাম ' কিতাবে আলী ' ও 'জামেয়া '। এতে তিনি দুনিয়ার যে সব ঘটনা সংঘটিত হবে তার বিবরণ দিয়েছিলেন( দৈনিক ইনকিলাব, ১২ই জুন ১৯৯৩)। 
১১ হিজরী সনে রাসুলের সাঃ তিরোধানের পর হযরত আবু বকর রাঃ মুসলিম জাহানের খলিফা মনোনীত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ১৩ হিজরী সনে হযরত ওমর রাঃ পরবর্তী খলিফা মনোনীত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ওসমান রাঃ খলিফা মনোনীত হন। ৩৫ হিজরী সনে ১৮ জিলহজ ওসমানকে হত্যা করার পর ২১ জিলহজ জনগণের চাপের মুখে আলী ইবনে আবি তালিব খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি ৪ বছর ৯ মাস খেলাফত পরিচালনা করেছিলে। এসময়ে তিনি  কখনো নির্বিঘ্নভাবে খেলাফতার দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।প্রথমেই তালহা ও জুবায়রের বিদ্রোহ, তারপর মুয়াবিয়ার বিদ্রোহ ও খারিজীদের বিদ্রোহের কারনে জামালের যুদ্ধ, সিফফিনের যুদ্ধ ও নাহরাওয়ানের যুদ্ধসহ আরো অনেক যুদ্ধে তাকেঁ জড়িয়ে পরতে হয়েছিল। তদুপরি তাঁর কঠোর নৈতিক মূল্যবোধের কারণে অনেক সুবিধাবাদী লোক তাঁর বিরুদ্ধে চলে যায়। এতে তিনি অসুবিধার সম্মুখীন হলেও কোরআন ও সুন্নাহর বিধান সমুন্নত রাখার ব্যাপারে কখনো কোনো প্রকার আপোস করেননি। ফলে ৪০ হিজরী সনের ১৯ রমজান কুফার মসজিদে ফজর সালাতের সময় গুপ্ত ঘাতকের মরণ আঘাতে আহত হয়ে ২১ রমজান ৬৩ বছর বয়সে শহীদ হন।
রাসুলের 'জ্ঞান নগরীর দ্বার ' আমীরুল মোমেনীন আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন তত্ত্বজ্ঞানী, দার্শনিক, সুলেখক ও বাগ্মী। আলঙ্কারিক শাস্ত্রে তাঁর পান্ডিত্য ও নৈপুন্য অসাধারণ। তিনি নবুওয়াতী জ্ঞান ভান্ডার হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করেন এবং সাহাবীদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী পন্ডিত ছিলেন এতে কারো দ্বিমত নেই। আরবি কাব্যে ও সাহিত্যে তাঁর অনন্যসাধারণ অবদান ছিলো। খেলাফত পরিচালনাকালে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ভাষন দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকগণকে প্রশাসনিক বিষয়ে উপদেশ ও নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মানুষের অনেক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছিলেন। তাঁর এসব বাণী কেউ কেউ লিখে রেখেছিলো কেউ কেউ মনে রেখেছিলো আবার কেউ কেউ তাদের লিখিত পুস্তকে উদ্ধৃত করেছিলো। মোটকথা তাঁর অমূল্য বাণীসমূহ মানুষের কাছে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ছিলো।
আমীরুল মোমেনীন আলী ইবনে আবি তালিবের অনন্যসাধারণ অবদান সম্পর্কে আশ শরীফ আর রাযীর পূর্বে কেউ গবেষণা করেছেন বলে জানা যায়না। তার পূর্ণ নাম আস সাঈদ আবুল হাসান আলী ইবনে হোসাইন আর রাযী আল মুসাবী। তিনি ৩৫৯ হিজরী সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি আব্বাসীয় খলিফা বাহাউদ্দৌলা বুইয়া এর যুগ পেয়েছিলেন। তাঁর উপাধী ছিলো নাকিবুল আশরাফ আত তালেবিন। তিনি আমীরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিবের ভাষন সমূহ,  পত্রাবলী, নির্দেশাবলী ও উক্তিসমূহ সংগ্রহ করে নাহাজ আল বালাঘা এবং কবিতাসমূহ সংগ্রহ করে দিওয়ান ই আলী নামক দুটি গ্রন্থ সংকলন করেন। এ গ্রন্থদ্বয় অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয়। শরীফ রাযী কর্তৃক সংকলিত নাহাজ আল বালাঘা এর বহু টিকা ও ভাষ্যগ্রন্থ রচিত হয়েছে। এসব ভাষ্যগ্রন্থের মধ্যে ইবনে আবিল হাদিদ ও মিসাম আল বাহারাণীর ভাষ্যগ্রন্থদ্বয় প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। নাহাজ আল বালাঘা গ্রন্থটি ইংরেজি, উর্দু ও ফার্সী ভাষায় অনুদিত হয়েছে। আল্লামা শরীফ রাযী ৪০০ হিজরী সনে উক্ত গ্রন্থটি সংকলন সমাপ্ত করেন এবং ৪০৬ হিজরী সনের ৫ মহররম তিনি বাগদাদে ইন্তেকাল করেন ( দৈনিক ইনকিলাব ৭ই জুলাই ১৯৯২)। 
নাহাজ আল বালাঘা গ্রন্থটি ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করেছে World Organization for Islamic Service, Tehran (WOFIS)। ইংরেজি অনুবাদটি তিন খন্ডে সমাপ্ত করা হয়েছে। ইংরেজি অনুবাদটি পড়ে আমি এতো বেশি আকৃষ্ট হয়েছি যে হেদায়েতের এ মহান বাণী সমূহ বাংলা ভাষাভাষী ভাই বোনদের হাতে পৌঁছানোর জন্য মনস্থির করে এর বাংলা অনুবাদ করা আরম্ভ করলাম। চাকুরী জীবনের ব্যাস্ত সময়ের ফাঁকে এ কাজটি ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে প্রায় দুবছরে সম্পূর্ণ অনুবাদ সম্পন্ন করলাম। এতে রয়েছে ২৩৯টি ভাষন ৭৯টি পত্র ও নির্দেশনামা এবং ৪৮৯টি উক্তি। অতঃপর আমি নাহাজ আল বালাঘার আরবি ও ফারসি ভার্সন সংগ্রহ করে কতিপয় আরবি জানা ব্যাক্তির সাথে অধিকাংশ ভাষন আরবিতে পড়ে আমার বাংলা অনুবাদ মিলিয়ে উহার সঠিকতা নিরুপন করেছি। এতে প্রায় ১ বছর সময় লেগে গেছে।
নাহাজ আল বালাঘা, nahaj-al-balagha, nahajul balagha bangla PDF download
নাহাজ আল বালাঘা

No comments:

Post a Comment