Breaking

Translate

Monday, 24 July 2017

ঘুরে আসুন পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং। আছে কিংবদন্তির সাগর দিঘী।

শোনা যায় বর্তমানে পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম হবিগঞ্জের বানিয়াচং।


সাগর দিঘী 
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের সাগর দিঘী।কবি জসীমউদ্দিনও নাকি এ সাগর দিঘীর পাড়ে বসে কবিতা লিখেছেন! কবিতার নাম 'রাণী কমলাবতীর দিঘী ',স্থান পেয়েছে 'সূচয়িনী ' কাব্যগ্রন্থে।স্থানীয় একটি অনলাইন পত্রিকার তথ্যমতে   এবং  দৈনিক যুুগান্তর পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধির দেয়া তথ্যমতে দিঘীটির আয়তন ৬৬ একর।
সাগর দিঘী 
১২শ শতাব্দীতে রাজা পদ্মনাভ বানিয়াচংয়ের এ দিঘীটি খনন করান প্রজাদের জলের চাহিদা পূরন করার জন্য।স্থানীয় কিংবদন্তী অনুসারে খনন করার পরও জল বের না হওয়ায় পরে রাণী কমলাবতীর আত্মবিসর্জনের মাধ্যমে দীঘিটি জলে পূর্ণ হয়!কিংবদন্তীর কাহিনীটি খুব সুন্দরভাবে বর্ননা করেছেন একজন ব্লগার সামহোয়্যারইন ব্লগে তাই পুনরাবৃত্তি না করে লিংক দিয়ে দিলাম পাঠক পড়ে নেবেন। বানিয়াচংয়ের শুঁটকি নদী নিয়েও চমৎকার একটি ছবি ব্লগ লিখেছেন তিনি।

তবে সত্যিই বানিয়াচংয়ের এই সাগর দিঘী বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম দিঘী কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছিনা কারণ অন্য কোথাও থেকে তথ্যটি যাচাই করে দেখিনি।
সাগর দিঘী 
প্রতিদিন বিকেলে দিঘীর পাড় জমজমাট থাকে দর্শনার্থীর ভীড়ে । বহুবার গিয়েছি সেখানে । দিঘীর পাড়েই রয়েছে ১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন সরকারি এল আর উচ্চবিদ্যালয়।যদি দিঘীর পাড়ে বসে গল্প করতে করতে কিছু খেতে ইচ্ছে করে সেজন্য আছে লুকু ভাইয়ের মুড়ি মাখার দোকান। তবে পর্যটকদের ভীড়ের কারণে হয়তো সিরিয়াল ধরে কিনতে হতে পারে।



আসলে আমার এই লেখাটিকে ঠিক ভ্রমন কাহিনী বলতে পারছিনা কারণ নিছক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এখানে আসিনি আবার এখানকার অধিবাসীও নই আমি !

মূলত কাজের উদ্দেশ্যেই বানিয়াচংয়ে আসা এবং একবছর হয়ে গেলো এখানেই অবস্থান করছি ! একটি এগ্রো কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে অবস্থান করায় বানিয়াচংয়ের আনাচকানাচে মটরসাইকেলে যতো ঘুরে বেড়িয়েছি নিজের এলাকাতেও এতো ঘোরাঘুরি হয়নি কখনো!

যেদিকে চোখ যায় শুধু দিগন্তজোড়া হাওড়। কৃষকদের সাথেই কাজ হওয়ায় হাওড়ের গভীর পর্যন্ত ঘুরে বেড়িয়েছি। বানিয়াচং শুধু একটি গ্রামের নাম নয় বানিয়াচং হবিগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে এই উপজেলায়। তবে বানিয়াচং গ্রামটির অন্তভুর্ক্ত হয়েছে বানিয়াচং উপজেলার চারটি ইউনিয়ন। 

বেশকিছু জ্ঞানী গুনী লোকের ঠিকানা এই বানিয়াচং। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের বাড়ি এই বানিয়াচংয়েই। গেছি সেখানেও। সাহিত্যে একুশে পদক ২০১৮ অর্জন করেছেন ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তাঁর পৈতৃক বাড়িও বানিয়াচংয়ের মীর মহল্লায়! জনপ্রিয় শিল্পী সুবীর নন্দীর গ্রামের বাড়িও বানিয়াচং। পাড়াটির নামই নন্দীপাড়া! তার বাড়ির পাশেই আমার বর্তমান ঠিকানা। অবশ্য প্রাচীন সেই পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি এখন ধ্বংসস্তুপ এবং সাপ বিচ্ছুর আবাসস্থল! ঠিক বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের পাশেই সেই বাড়ি! দিনের বেলাতেও লোকজন সেখানে যেতে ভয় পায়।  একদিন রাতে এডভেঞ্চার করতে ঢুকে পড়েছিলাম বাড়ির ভেতর। বানিয়াচং থানা এবং শাহী ঈদগাহর পাশেই রয়েছে মুঘল আমলের বিবির দরগাহ্ জামে মসজিদ। অবশ্য মসজিদটির কিছু অংশ পুনঃনির্মিত হয়েছে। নামাজ পড়েছি সেই মসজিদে। বানিয়াচংয়ের প্রাণকেন্দ্র বড় বাজারের পাশেই রয়েছে প্রাচীন রাজবাড়ি। এ ছাড়াও রয়েছে আরো দর্শনীয় স্থান।

কিভাবে যেতে হয় বানিয়াচং?

গ্রাম হলেও যোগাযোগ ব্যাবস্থা খুবই ভালো। বাংলাদেশের যে কোনো জায়গা থেকে সহজেই যাওয়া যায় বানিয়াচং। বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্ত থেকেই আসুন না কেন সড়ক বা রেলপথে, নামতে হবে হবিগঞ্জের আরেকটি থানা শায়েস্তাগঞ্জে। এটি ঢাকা সিলেট মহাসড়কেই। এই পথের সব যানবাহনই এখানে থামে। তবে যদি হবিগঞ্জ পর্যন্ত বাস আসে তাহলে হবিগঞ্জে নামলেই ভালো হবে। সব বাস হবিগঞ্জ পর্যন্ত আসে না। আর রেলপথে আসলে অবশ্যই শায়েস্তাগঞ্জেই নামতে হবে কারণ হবিগঞ্জে কোনো রেলওয়ে নেই। শায়েস্তাগঞ্জ নামলে সেখান থেকে আবার যেতে হবে হবিগঞ্জ। হবিগঞ্জ থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দুরেই বানিয়াচংয়ের বড়বাজার!রাস্তা একেবারে হাইওয়ের মতোই চমৎকার!গণপরিবহনে গেলে হবিগঞ্জ থেকে সিএনজিতে বানিয়াচং যাওয়াই আরামদায়ক!




বানিয়াচং এসে থাকতে চাইলে পাবেন আবাসিক হোটেল। বানিয়াচংয়ের প্রাণকেন্দ্র বড়বাজারেই রয়েছে হোটেল আল আমান, হোটেল শাপলা এবং হোটেল রনি। এদের মধ্যে হোটেল আল আমানের পরিবেশ মোটামুটি ভালো। আল আমান হোটেলের নিচেই রয়েছে রেস্টুরেন্টে কুটুমবাড়ি। তবে কুটুমবাড়ির পরিবেশ নোংরা! খাওয়ার জন্য ভালো হোটেল রয়েছে পোস্ট অফিস রোডে। হোটেল হিমেল। মাঝেমধ্যে হাওড়ের বক এবং বালিহাঁসের তরকারিও রান্না হয়! ভাগ্য ভালো হলে পেয়েও যেতে পারেন!

তো যাবেন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গ্রাম বানিয়াচংয়ে? আরো কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করুন।

বানিয়াচং নিয়ে আরেকটি তথ্যবহুল সুন্দর লেখা পাবেন বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ব্লগে


No comments:

Post a Comment